ইলিয়ট ব্রিজ ( বড় পুল )

Eliot Bridge, Sirajganj, Bangladesh

Details

সিরাজগঞ্জ শহর ও আশেপাশে দেখার রয়েছে অনেক কিছুই, অনেকের কাছে হয়ত মনে হবে এত গড়পড়তা মফস্বল শহর এখানে আর কি দেখব…? জ্বী!!! প্রকৃতপক্ষে যারা দেখতে ভালোবাসেন তার অনেক কিছুই দেখবেন 🙂 !! ওইযে সেই ‘ধানের পাতার উপড়ের শিশির বিন্দু’ দেখার মত 🙂 :)। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই আসুন আমরা সিরাজগঞ্জ শহরের এদিক সেদিক একটু ঢুঁ মারি 🙂 :)।

সিরাজগঞ্জ শহর আসলে দুই ভাগে বিভক্ত, শহরের মাঝখান দিয়ে ‘কাটাখালী’ নামের এক খাল বয়ে গেছে। যদিও কালের বিবর্তনে এর প্রবাহ এখন আর গতিশীল নেই তার পরেও শহর ‘এপার’ আর ‘ওপার’ নামে চিহ্নিত :)! এই খালের উপরেই শহরের এপাড় ও ওপাড় সংযোগ করতে ১৮৯২ সালের ৬ অগাস্ট তৎকালীন বাংলা ও আসামের গভর্নর স্যার চার্লস ইলিয়ট এই ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তার নাম অনুসারেই পরবর্তীতে এই ব্রীজের নামকরণ হয় ‘ইলিয়ট ব্রিজ’।

ইলিয়ট ব্রীজের পূর্ব পাড়


Image Clipping Path by Color Cube Graphics

স্থানীয় ভাবে এই ব্রীজ ‘বড়পুল’ নামে পরিচিত। মাঝখানে পিলার ব্যাতিত সম্পূর্ণ স্টিলের কাঠামোর উপড়ে এই ব্রীজটি দাড়িয়ে আছে। সাবেক কালে যখন কাটাখালী দিয়ে মালবাহী বড় বড় নৌকা ও বার্জ পিলার বিহীন এই ব্রীজের নীচ দিয়ে নির্বিঘ্নে পার হত।

ব্রীজের মাঝামাঝি

ব্রীজের নীচ দিয়ে বয়ে চলা ‘কাটা খালী খাল’

পিলারবিহীন মূল ব্রীজ (নীচ থেকে)

আজও কালের সাক্ষী হিসেবে সেই ‘বড়পুল’ বহাল তবিয়তে শহরবাসী ও ছোট ছোট গাড়ী ঘোড়া পার করছে। আপনি ইচ্ছে করলে হেঁটে হেঁটে যখন ‘বড়পুল’ পার হবেন, একটু অবাকই হবেন বুঝতে পারবেন ‘বড়পুল’ নাম করনের সার্থকতা । কেমন হবে আপনার অনুভূতি যখন মনে হবে এই ব্রিজের বয়স আজ ১২৩ বছর, যে রেলিংটা দেখছেন তা হয়ত কোন এক ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ারের লাগানো.. এটা মনে করে অবশ্যই রোমাঞ্চিত হবেন

১৮৯২ সালে সে সময়কার সিরাজগঞ্জের সাব ডিভিশনাল অফিসার মি. বিটসনবেল বড়াল নদীর উপর একটা ব্রীজ তৈরী করার কথা ভাবতে শুরু করেন। তৎকালীন সময়ের বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটা কমিটি গড়লেন তিনি। ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড থেকে অনুদান আদায় করে নিলেন ১৫০০ টাকার। আর ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলেন যার যার সাধ্যমতো। সিদ্ধান্ত হয়ে গেল খুব শিগগিরই একটা ব্রীজ তৈরীর কাজ শুরু হবে বড়াল নদীর উপর।তখনকার সময়ে বাংলা আর আসামের যে গভর্নর তাঁর নাম চার্লস ইলিয়ট। তিনিই এক শুভক্ষণে ১৮৮২ সালের ৬ আগষ্ট ফাউন্ডেশন কাজের শুভ উদ্ভোধন করলেন সেই ব্রীজের, বড়াল নদীর উপর। তার নামেই এই ব্রীজের নামকরণ করা হল ‘ইলিয়ট ব্রীজ’।

ইলিয়ট ব্রিজ সিরাজগঞ্জ শহরের কাটাখালের উপরে লোহা ও সিমেন্টের সমন্বয়ে তৈরী। সিরাজগঞ্জ শহরকে দেখার জন্য কাঁটাখালের উপরে প্রায়৩০ ফুট উঁচু করে ইংরেজ এসডিও মিঃ বিটসন বেল আই, সি, এস, সাহেব ১৮৯৫ সনে ৪৫,০০০/- টাকা খরচ করে বাংলার তৎকালিন ছোটলাট স্যার আলফ্রেড ইলিয়ট সাহেবের নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন । সে আমলে সন্ধ্যার পর ইলিয়ট ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের একটি ভিন্নতর রূপ নজরে পড়তো।

১৮৮২ সালে নির্মিত এই ইলিয়ট ব্রীজ আজও তার প্রথম দিনের সমৃদ্ধি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জ শহরে। ১৮০ ফুট লম্বা আর ১৬ ফুট চওড়া এই ইলিয়ট ব্রীজের প্রধানতম বৈশিষ্ট হলো এতে কোন পিলার নেই! ষ্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ড নামের ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ারের তৈরী এই পিলারবিহীন একমাত্র আর্চ দিয়ে তৈরী ব্রীজটি তৈরীতে সেসময় পয়তাল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।

আজও এই ইলিয়ট ব্রীজ সিরাজগঞ্জ শহরের একটি আকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য। হাজারো মানুষ আজও ছুটে যায় আসে এই ব্রীজটির সৌন্দর্য দেখার জন্য।

Summary
ইলিয়ট ব্রিজ ( বড় পুল )
Article Name
ইলিয়ট ব্রিজ ( বড় পুল )
Description
সিরাজগঞ্জ শহর ও আশেপাশে দেখার রয়েছে অনেক কিছুই, অনেকের কাছে হয়ত মনে হবে এত গড়পড়তা মফস্বল শহর এখানে আর কি দেখব…? জ্বী!!! প্রকৃতপক্ষে যারা দেখতে ভালোবাসেন তার অনেক কিছুই দেখবেন ? !! ওইযে সেই ‘ধানের পাতার উপড়ের শিশির বিন্দু’ দেখার মত ? :)। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই আসুন আমরা সিরাজগঞ্জ শহরের এদিক সেদিক একটু ঢুঁ মারি ? :)। সিরাজগঞ্জ শহর আসলে দুই ভাগে বিভক্ত, শহরের মাঝখান দিয়ে ‘কাটাখালী’ নামের এক খাল বয়ে গেছে। যদিও কালের বিবর্তনে এর প্রবাহ এখন আর গতিশীল নেই তার পরেও শহর ‘এপার’ আর ‘ওপার’ নামে চিহ্নিত :)! এই খালের উপরেই শহরের এপাড় ও ওপাড় সংযোগ করতে ১৮৯২ সালের ৬ অগাস্ট তৎকালীন বাংলা ও আসামের গভর্নর স্যার চার্লস ইলিয়ট এই ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তার নাম অনুসারেই পরবর্তীতে এই ব্রীজের নামকরণ হয় ‘ইলিয়ট ব্রিজ’।
Author
Publisher Name
Digital Sirajganj
Publisher Logo
  • Views: 213

Send this to a friend