হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) এর মসজিদ ও মাজার

হযরত শাহ শাখদুম রাঃ মাজার, শাহজাদপুর উপজেলা, রাজশাহী বিভাগ, বাংলাদেশ

Details

হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রযুক্তি স্থাপনাস্থাপত্য রীতির বিবেচনায় বলা যায় যে, শাহজাদপুর মসজিদটি মুঘলপূর্ব যুগে নির্মিত। অলীআউলিয়া, জ্ঞানীগুণী অসংখ্য বিখ্যাত জনের পদচারণায় ধন্য শাহজাদপুরের মাটি। এখানে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব আর প্রাচীন ঐতিহ্যের বহু নিদর্শনসমূহ। এ অঞ্চলের ইসলাম প্রচারক ১২৯২ খৃষ্টাব্দে আরবের ইয়েমেন থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) একদল মুবাল্লিগসহ শাহজাদপুরে আসেন। ঐতিহাসিকদের অনেকেই একমত যে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর সিলেট আগমনের অনেক আগেই মখদুম শাহদ্দৌলা (রঃ) তাঁর অনুচরদের নিয়ে আসতেন। দি জার্নাল এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল ভলিউম ৭০(১৯০৪) প্রথম খণ্ডে মৌলভী আব্দুলওয়ালী লিখেছেন, আরব দেশের ইয়েমেনের গভর্নর মুয়াজ ইবনে জাবালের দুই পুত্রকন্যা সন্তান ছিল তাঁর মধ্যে বড়পুত্র মখদুম শাহদ্দৌলা (.) পিতার অনুমতি নিয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। ওই সময় বর্ষা মওসুম হওয়ায় থই থই পানিতে গোটা শাহজাদপুর ডুবে ছিল। দেখা যেত সাগরের মত। তখন তারা এক জোরা কবুতর নিয়ে ছেড়ে দেন। আর নিশানার জন্য কবুতরের জোড়া উড়ে গিয়ে শুকনো মাটি নিয়ে আসেন। অবশ্য এ কবুতর বর্তমান উজবেস্তিানের বোখারা নগরীর জালাল উদ্দিন তিবরীজির কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। পরে কবুতরের অনুসরণ করে করতোয়া নদীর তীরে দরগাহপাড়া এসে তাঁবু টানান। এবং সাময়িকভাবে এখানে বসবাস করে ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। দরগাহপাড়ার এই স্থানটিতেই মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) তাঁর অনুচর এবং ওস্তাদ শামসুদ্দিন তাবরেজীকে নিয়ে পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করতেন। ধীরে ধীরে এখানে গড়ে তোলেন জামে মসজিদ। তখনকার ওই মসজিদটি “মখদুমিয়া জামে মসজিদ” হিসেবেই পরিচিত লাভ করে। আর এই মসজিদকে ঘিরেই ইসলাম প্রচারণা চালাতে থাকেন তখন এই অঞ্চলের সবটুকুই ছিল সুবা বিহারের রাজা বিক্রম কিশোরীর অধীনে। ইসলাম প্রচারে ঈশান্বিত হয়ে রাজা বিক্রম কিশোরী বাধা প্রদান করতে থাকলে সর্বমোট ৩৩বার মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) এর সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথম দুটি যুদ্ধে বিক্রম কিশোরী পরাজিত হলে প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া হয়ে উঠে। পরে গুপ্তচর পাঠিয়ে ওই গুপ্তচর মখদুম শাহদ্দেীলা (রহঃ) এর বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হয়ে একদিন একাকী অবস্থায় আসর নামাজ পড়ার সময় ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে গুপ্তচর দেহ থেকে গর্দান মোবারক বিছিন্ন করে শহীদ করেন। পরে তাঁর দ্বিখণ্ডিত মাথা সুবা বিহারের রাজা বিক্রম কিশোরীর নিকট নেয়া হলে সেখানেও জবান থেকে সোবহান আল্লাহ ধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকে। এই অলৈাকিক দৃশ্য দেখে সুবা বিহারের রাজাসহ অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দ্বিখণ্ডিত দেহ মোবারক এই মসজিদের দক্ষিণ –পূর্ব কোণে দাফন করা হয়। থেমে থাকেনি ইসলাম প্রচারের কাজ। শাহাদতের তামান্নায় উজ্জীবিত হয়ে মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) অনুচররা অব্যাহত রাখেন প্রচার প্রসারের কাজ। সুযোগ্য উত্তরসূরী ইউসুফ শাহ (রহঃ),শাহ হাবিবুল্লাহ (রহঃ),শাহ বদর (রহঃ), ওস্তাদ শামসুদ্দিন তাবরেজী (রহঃ) এর প্রচেষ্টায় দিন দিন ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার করে। যার ফলে হিন্দুদের সংখ্যা কমে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করা হয়। এজন্য বহু সংখ্যক ঈমানদার মুসলমানকে শহীদ হতে হয়। দরগাহপাড়ার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য শহীদের কবর রয়েছে। এমনকি এই মসজিদের দক্ষিণ কোণে শহীদদের গণ কবর বা গঞ্জে শহীদান রয়েছে। পরে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা শহীদী রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করে এ অঞ্চলে শাসন ভার অর্পিত হয় ইউসুফ শাহ (রহঃ) এর উপর। আর তাঁর নামানুসারেই এ অঞ্চলকে ইউসুফ শাহ পরগনার অধীনে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে (১৫০০১৫৭৬) খৃষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম সুলতানি আমলে এই মসজিদের নিদর্শন কাজ শুরু হয়। তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম কারুকার্য ব্যবহার করা হয় এর নির্মাণে। ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের উত্তর দক্ষিণ দৈর্ঘ্য ১৩.১৯ মিটার পূর্ব পশ্চিম প্রস্থ ১২.৬০ মিটার এবং ছাদের উপরিভাগের গম্বুজের ব্যাস ৩.০৮ মিটার। গম্বুজের প্রতিটি মাথায় পিতলের কারুকার্য মন্ডিত। যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এটিই শাহজাদপুরের মুসলমানদের প্রথম বা বড় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। প্রতি জুম্মাবার এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে আসে। সুলতানি আমলে ইসলাম প্রচারক হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত স্থানে তৎকালীন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা শাহজাদপুর দরগাহপাড়া “মখদুমীয়া জামে মসজিদ নির্মাণ করেছেন তা কালের গর্বে হারিয়ে যেতে বসেছে। বিজড়িত স্থানে তৎকালীন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা শাহজাদপুর দরগাহপাড়া “মখদুমীয়া জামে মসজিদ নির্মাণ করেছেন তা কালের গর্বে হারিয়ে যেতে বসেছে। মসজিদটির ভিতর ও বাইরে শ্যাওলা জমে গেছে। সিমেন্ট, পাথর, চুন সুরকি নষ্ট হয়ে গেছে। সর্বমোট ২ বার এই মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে। গত ৪ মাস আগেও মসজিদটি ২য় দফা সংস্কার করা হয়। মসজিদের পাশে মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) এর কবরের উপরে বিশাল আকৃতির গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদ ও মাজারকে ঘিরে এখানে প্রতিদিন শত শত ধর্মপ্রাণ নারী পুরুষ জিয়ারত করতে আসে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এখানে এসে অলীর অছিলা করে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়। তাই মানতের জন্য গরু, ছাগল, মুরগি নিয়ে শিরনি দেয়া হয়। 


বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের শাহজাদপুরের মানুষের বিশ্বাস এখানে এসে অলীর অছিলা করে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়। তাই মানতের জন্য গরু, ছাগল, মুরগি নিয়ে শিরনি দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের আওতায় এটি সংরক্ষণ ও দেখা শুনা করা হয়। আওতায় এটি সংরক্ষণ ও দেখা শুনা করা হয়। প্রতি বছর মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) এর নামে বাৎসরিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। শাহজাদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে আাসে নামাজ আদায় করতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও আসেন নারীপুরুষ। তবে দুঃখজনক হলো এখানকার পুরাকীর্তি হিসেবে মখদুমিয়া জামে মসজিদ থাকলেও নতুন নির্মিত মাজারের উপরের বিশাল গম্বুজটিই সর্বাধিক গুরুত্ব পায় এর স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে। তবে এর প্রকৃত ইতিহাস অনেকেই না জেনে এটাকে শাহ মখদুমের মাজার বলে অভিহিত করে থাকে। অথচ শাহ মখদুম হচ্ছেন রাজশাহী অঞ্চলের একজন ইসলাম প্রচারক। এছাড়াও দরগাহ পাড়ার অদূরে ছয়আনী পাড়ায় একটি মসজিদ রয়েছে। যা শাহ বদর মসজিদ হিসেবে পরিচিত। সেটির শিলালিপি থেকে বোঝা যায়, সেটিও মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) এর পরবর্তী সময়ে এটি নির্মিত হয়েছে। তাই শাহজাদপুরের এই দুটি মসজিদই সবচেয়ে প্রাচীনতম বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। যার কারণে শাহজাদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতি চিহ্নগুলো যথাযথ সংরক্ষণ না করায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্য।

 

সাধারণ তথ্য

ঠিকানা

শাহজাদপুর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা

শহর

রাজশাহী

দেশ

বাংলাদেশ

স্বত্বাধিকারী

বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তর

কারিগরী বিবরণ

তলার সংখ্যা

যে কারণে পরিচিত

হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার ভবন

অন্যান্য তথ্য

কহ্ম সংখ্যা

কিভাবে যাওয়া যায়

বাস ও ট্রেন যোগাযোগ ঢাকা থেকে ট্রেনে উল্লাপাড়া স্টেশনে নেমে সিএনজি/ বাস যোগে এবং ঢাকা থেকে বাস যোগে সরাসরি শাহজাদপুরে আসা যায় । বাসে কল্যানপুর/টেকনিক্যাল/গাবতলী থেকে উঠতে হয় । ভোর ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বাস পাওয়া যায় । সবগুলো গাড়ি শাহজাদপুর হয়ে পাবনা যায় । শাহজাদপুর ট্র্যাভেলস,পাবনাএক্সপ্রেস, আলহামরা, শ্যামলী পরিবহন ইত্যাদি গাড়িগুলো বেশ ভাল । এর মধ্যে শাহজাদপুর ট্র্যাভেলস,পাবনা এক্সপ্রেস, শ্যামলী পরিবহন কোচগুলোর এসি সার্ভিস রয়েছে । এসি কোচ গুলো ঢাকা থেকে বিকাল৩৪ টার মধ্যে ছাড়ে ।ঢাকা খেকে শাহজাদপুরে আসতে বাসে প্রায় ৩.৩০ ৪ ঘন্টা লাগে । ঢাকা থেকে আসার সময় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় অথবা সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের ফুডভিলেজ/এরিষ্টোক্রেট হোটেলে ২০ মিনিটের যাত্রা বিরতি দেয় । শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক/ দিলরুবা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয় । সেখান থেকে ১০/১৫টাকার রিক্সা ভাড়া দিয়ে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) এর মাজার ও মসজিদ এ আসা যায় ।

অবস্থান

হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। বগুড়া নগরবাড়ি পাকা সড়ক থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে হুরাসাগর নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই মাযার।

বিবরণ

শাহজাদপুর দরগাহ মসজিদটির পাশেই হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার এবং অন্যান্য শহিদের কবর অবস্থিত। মখদুম শাহের সমাধিটি একটি প্রাচীন গোলাকার এক কক্ষের স্থাপত্য। কক্ষের উপরে একটি বৃহদাকার গম্বুজ আছে।

মাজারের কিংবদন্তী

কথিত আছে, ইয়েমেনের শাহজাদা হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহঃ) ১১৯২৯৬ সালের মধ্যে ইয়েমেন থেকে ধর্মপ্রচারার্থে যাত্রা শুরু করে বোখারা শহরে আগমন করেন। বোখারা শহরে হযরত জালাল উদ্দিন বোখারী (রহঃ) এর দরবার শরীফে কিছু সময় অতিবাহিত করে তিনি বাংলার পথে যাত্রা শুরু করে বাংলার শাহজাদপুর অঞ্চলে আসেন। তিনি বাংলায় প্রবেশ করে ইসলাম প্রচার শুরু করলে তৎকালীন সুবা বিহারের অমুসলিম অধিপতি রাজা বিক্রম কেশরীহযরত মখদুম শাহদৌলার আগমনে রাগান্বিত হয়ে তার সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু সৈন্যবাহিনী পরাজিত হয়ে ফিরে যায়। রাজা বিক্রম কেশরী বেশ কয়েকবার সৈন্য প্রেরণ করে পরাজিত হয়, ইতিমধ্যে হযরত মখদুম শাহদৌলা শাহজাদপুরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন। তার আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা এই অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করেন। শেষ যুদ্ধে হযরত মখদুম শাহদৌলা এবং তার বহু সঙ্গী ও অনুসারী যোদ্ধা শহীদ হন, এই ধর্ম যুদ্ধে তার শহীদ হবার কারণে তিনি হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহঃ) নামে পরিচিত লাভ করেন।


বাংলার আউলিয়াদরবেশের মধ্যে মখদুম শাহ খুবই পরিচিতি ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে পুরানো শাহী মসজিদের পাশ্ববর্তী কবরস্থানে তিনি শায়িত আছেন।

Summary
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) এর মসজিদ ও মাজার
Article Name
হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহঃ) এর মসজিদ ও মাজার
Description
হযরত মখদুম শাহদৌলার মাজার বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রযুক্তি স্থাপনা। স্থাপত্য রীতির বিবেচনায় বলা যায় যে, শাহজাদপুর মসজিদটি মুঘলপূর্ব যুগে নির্মিত। অলী–আউলিয়া, জ্ঞানী–গুণী অসংখ্য বিখ্যাত জনের পদচারণায় ধন্য শাহজাদপুরের মাটি। এখানে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব আর প্রাচীন ঐতিহ্যের বহু নিদর্শনসমূহ। এ অঞ্চলের ইসলাম প্রচারক ১২৯২ খৃষ্টাব্দে আরবের ইয়েমেন থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) একদল মুবাল্লিগসহ শাহজাদপুরে আসেন। ঐতিহাসিকদের অনেকেই একমত যে, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর সিলেট আগমনের অনেক আগেই মখদুম শাহদ্দৌলা (রঃ) তাঁর অনুচরদের নিয়ে আসতেন। দি জার্নাল এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল ভলিউম ৭০(১৯০৪) প্রথম খণ্ডে মৌলভী আব্দুলওয়ালী লিখেছেন, আরব দেশের ইয়েমেনের গভর্নর মুয়াজ ইবনে জাবালের দুই পুত্র–কন্যা সন্তান ছিল তাঁর মধ্যে বড়পুত্র মখদুম শাহদ্দৌলা (র.) পিতার অনুমতি নিয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। ওই সময় বর্ষা মওসুম হওয়ায় থই থই পানিতে গোটা শাহজাদপুর ডুবে ছিল। দেখা যেত সাগরের মত। তখন তারা এক জোরা কবুতর নিয়ে ছেড়ে দেন। আর নিশানার জন্য কবুতরের জোড়া উড়ে গিয়ে শুকনো মাটি নিয়ে আসেন। অবশ্য এ কবুতর বর্তমান উজবেস্তিানের বোখারা নগরীর জালাল উদ্দিন তিবরীজির কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। পরে কবুতরের অনুসরণ করে করতোয়া নদীর তীরে দরগাহপাড়া এসে তাঁবু টানান। এবং সাময়িকভাবে এখানে বসবাস করে ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। দরগাহপাড়ার এই স্থানটিতেই মখদুম শাহদ্দৌলা (রহঃ) তাঁর অনুচর এবং ওস্তাদ শামসুদ্দিন তাবরেজীকে নিয়ে পাঞ্জেগানা নামাজ আদায় করতেন। ধীরে ধীরে এখানে গড়ে তোলেন জামে মসজিদ। তখনকার ওই মসজিদটি “মখদুমিয়া জামে মসজিদ” হিসেবেই পরিচিত লাভ করে।
Author
Publisher Name
Digital Sirajganj
Publisher Logo
  • Views: 360

Send this to a friend